দক্ষিণ পূর্ব

ক্রসফায়ার বিতর্ক

ক্রসফায়ার বিতর্কে আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৯ সকাল
পঠিত : ২৫
ক্রসফায়ার বিতর্কে আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন
Degchibarictg


‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যকে ‘সময়োপযোগী আহ্বান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। সংগঠনটি বলেছে, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে আইজিপির বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সই করা এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ‘মব কালচার’ এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আইন প্রয়োগে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, এর মূল তাৎপর্য হলো, আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গলসহ বিভিন্ন আইনে পুলিশের ক্ষমতা ও দায়িত্বের কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে। এসব বিধানের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে নেতিবাচকভাবে দেখা এবং অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপিএসএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনায় চারজন সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতি পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে।

সংগঠনটির মতে, পুলিশ সদস্যদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে তাঁরা আত্মরক্ষার অধিকারসহ প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সুদৃঢ় আইনশৃঙ্খলা অপরিহার্য। অপরাধ দমনে পুলিশ তার আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। অন্যদিকে, আইনের সীমা অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক।

সুতরাং, আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মনে করে বিপিএসএ।

উল্লেখ্য, সোমবার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, তাহলে আমরা সেটাই করব।’

তাঁর এ বক্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন প্রতিবাদ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরল পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

তবে আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে ব্যাখ্যা করলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের আইনি সীমা এবং এ ধরনের ঘটনায় জবাবদিহির প্রশ্ন বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।


এসআই/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।