মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার পরিণতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ কেউ ভালোভাবে নেননি। অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কিছু মানুষের বিচার হওয়ার পর তাঁদের মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছিল। তবে ওই বিচারগুলোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিরাও মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ পছন্দ করেননি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তাঁর বিচার সৃষ্টিকর্তার কাছে হবে। যারা এ ধরনের কাজ করেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত সমাজে নিন্দিত হবেন। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁরা মানুষের প্রশংসা বা সমর্থন পাবেন না।
চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে মৌলবাদী ও অতি ডানপন্থী উগ্রবাদীদের তৎপরতা এবং টঙ্গীতে এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। টঙ্গীর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না, বিষয়টি এমন নয়। টঙ্গীর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে এ প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করে কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারবে না—সরকারের পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলে এ ধরনের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। এ প্রবণতা দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি, ভবিষ্যতেও আসবে না।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনার সময়ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এসব বিষয়কে বাংলাদেশ মেনে নিয়েছে—এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এসআই/
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।