মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের বিদেশি সহায়তা ছাড় হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক—১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৬ কোটি ২০ লাখ, ভারত ১০ কোটি ৪০ লাখ, রাশিয়া ২ কোটি এবং চীন ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ছাড় করেছে।
প্রথম তিন মাসে পাওয়া নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ ছিল ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং অনুদান ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
ইআরডি জানায়, এ সময়ে জাপান ৩৫ লাখ ১০ হাজার, জাতিসংঘ ১ কোটি ৪০ লাখ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৪ কোটি ১২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং কর্ডোনেশন অ্যান্ড নরডিকের কাছ থেকে নতুন ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতেও বড় অর্থায়নের উদ্যোগ
দেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অর্থায়ন বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে।
প্রকল্প সহায়তা ছাড় ৬৫ কোটি ডলার
চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ছাড় হওয়া বিদেশি সহায়তার মধ্যে প্রকল্প সহায়তা ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে।
ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ
বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় বাড়লেও ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ মোট ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
ইআরডির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি ঋণের আসল হিসেবে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
একই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এসআই/
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।