দক্ষিণ পূর্ব

গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে ১০ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পূরণ করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২৭ দুপুর
পঠিত : ৫
গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে ১০ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পূরণ করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত

ছবি

Degchibarictg
পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম নগরে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন চসিকের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নবিষয়ক সমন্বয় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় সড়কে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় নগরের সড়ক ও উন্মুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রশাসক।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে এলে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চসিকের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় নগরে ১০ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এক বছরে বিমানবন্দর থেকে মোহরা এবং সিটি গেট থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য পূরণে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।

প্রশাসক বলেন, নগরের কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের সব মিড-আইল্যান্ড ফুল ও সবুজে সাজানো হচ্ছে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিংয়ের মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ ও শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির দেশীয় গাছ লাগানো হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় শোভা ছড়াচ্ছে নানা রঙের ফুল। গাছগুলোর পরিচর্যায় নিয়মিত পানি দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গাছে ফোটা ফুল নাগরিকদের নান্দনিক আনন্দ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট রোডের সৌন্দর্যবর্ধন নগরবাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। মানুষ সেখানে ছবি তুলছেন ও সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। এটি সিটি করপোরেশনের জন্য গর্বের বিষয়। নগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব সড়ক ও স্থানে মানুষের চলাচল বেশি, সেগুলো নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তুলতে হবে।

ফিরিঙ্গিবাজার সড়ক, কর্ণফুলী পার্কসংলগ্ন গোলচত্বর, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার এক্সেস রোড, চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের সামনের সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পরিকল্পিতভাবে দৃষ্টিনন্দন করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রশাসক। এসব স্থানে উপযুক্ত নকশা, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করে তোলার নির্দেশনা দেন তিনি।

সৌন্দর্যবর্ধনে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেই একটি স্থান সুন্দর হবে, এমন নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও নান্দনিক নকশার মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়েও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্থপতি ও নকশাবিদদের মতামত নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি সেখানে সাইকেল লেন স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রশাসক বলেন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে সাইকেলবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি পরিকল্পনায় রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন সড়ক ও গোলচত্বরগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজাতে হবে।

নগরের বিভিন্ন মিড-আইল্যান্ড ও সড়ক বিভাজকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবর্তক মোড়, গোলপাহাড়, মেডিকেল কলেজ এলাকা, সংলগ্ন গোলচত্বর ও জামালখানসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সৌন্দর্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে গাছ লাগানো, গ্রিল সংস্কার ও নান্দনিক নকশা সংযোজনের মাধ্যমে পরিবেশ আরও সুন্দর করে তুলতে হবে।

নগরের জামালখানসহ জনবহুল সড়কগুলোতে দেশের কীর্তিমান ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি স্থাপনের কথা জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় কীর্তিমান ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি রং হারিয়েছে এবং পোস্টারে ঢাকা পড়েছে। বিদ্যমান ছবিগুলো অক্ষুণ্ন রেখে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ছবি ও তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিও যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

নগরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শুধু সৌন্দর্যবর্ধন করলেই হবে না, এসব স্থাপনা ও জনপরিসরের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। ফুটপাত, পথচারীদের বসার বেঞ্চ ও উন্মুক্ত স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

একই সঙ্গে ডিসি হিল পার্কসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্রগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রশাসক আরও বলেন, সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। যেসব স্থানে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হয়েছে, সেগুলোর মান বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন এলাকাগুলোকেও পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে হবে।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।