দক্ষিণ পূর্ব

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলায় গড়ে তুলতে হবে মেধাবী প্রজন্ম: ডা. শাহাদাত

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩৫ দুপুর
পঠিত : ৩
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলায় গড়ে তুলতে হবে মেধাবী প্রজন্ম: ডা. শাহাদাত
Degchibarictg
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে মেধাবী, মানবিক ও আলোকিত প্রজন্ম তৈরি করতে হবে। শুধু শিক্ষার হার বাড়ালেই হবে না, নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষার গুণগত মান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধেও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষাবৃত্তি প্রদান-২০২৬’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা হচ্ছে একটি জাতির মেরুদণ্ড। মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্পাইনাল কর্ডের ওপর যেমন পুরো শরীরের কার্যকারিতা নির্ভর করে, তেমনি শিক্ষার ওপর নির্ভর করে একটি জাতির ভবিষ্যৎ। শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে জাতিও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের মেধার বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও অধ্যবসায়ের চর্চা করতে হবে। এসব গুণ অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং অর্জিত শিক্ষাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোই প্রকৃত সাফল্য। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক কিংবা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি—সবার মধ্যেই মানবিকতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা সমাজের সবার দায়িত্ব।

চসিকের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন, কলেজ এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করে। আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ দেশ পরিচালনার যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান (শামীম)।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম ও সরওয়ার আলমগীর, বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হতে হবে আলোকিত মানুষ তৈরি করা। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ—এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

আর এইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।