চট্টগ্রামে বেসরকারিভাবে পরিচালিত একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠা চিটাগাং কনটেইনার ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিটিসিএল) পরিচালনার দায়িত্ব গত ২১ অক্টোবর থেকে নিজেদের হাতে নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন নিজস্ব সরঞ্জাম ও জনবল দিয়ে ডিপোটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিপোটিকে বন্দরের নিজস্ব ব্যবহারের উপযোগী করতে পুরো জায়গা খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সেখানে আপাতত নতুন আমদানি কনটেইনারের আইজিএম (ইমপোর্ট জেনারেল ম্যানিফেস্ট) প্রদান এবং রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে ডিপোটিতে আগে থেকে থাকা আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনারের কার্যক্রম চলবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামের পাশে প্রায় ১২ একর বা ৪৮ হাজার ৪৯৪ বর্গমিটার জায়গায় ২০০৩ সালে সিসিটিসিএলের নামে বেসরকারি আইসিডিটি গড়ে তোলা হয়। বন্দর থেকে জায়গাটি ইজারা নিয়ে ব্যবসায়ীরা ডিপোটি নির্মাণ করেন। এরই মধ্যে ইজারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের নিজস্ব প্রয়োজনে জায়গাটি দরকার হওয়ায় ডিপোর নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ২৩ অক্টোবর এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব। চিঠিতে সিসিটিসিএলের আইজিএম কোড ব্যবহার করে নতুন আমদানি কনটেইনারের কার্যক্রম এবং রপ্তানি কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ অক্টোবর থেকে সিসিটিসিএলের অনুকূলে বরাদ্দ করা জায়গাটি বন্দরের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য বুঝে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বন্দরের নিজস্ব সরঞ্জাম ও জনবল দিয়ে সেখানে থাকা কনটেইনারগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন আমদানি কনটেইনার গ্রহণ ও রপ্তানি কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকলেও আগে থেকে ডিপোতে থাকা আমদানি কনটেইনার আমদানিকারকদের কাছে সরবরাহ করা হবে। একইভাবে আগে থেকে থাকা রপ্তানি কনটেইনারে পণ্য বোঝাই এবং জাহাজিকরণের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। ডিপোটিকে বন্দরের ব্যবহারের উপযোগী করতে পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি খালি করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে ২৩টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো রয়েছে। এসব ডিপোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টিইইউএস। এর মধ্যে সিসিটিসিএলের ধারণক্ষমতা ৬ হাজার টিইইউএস। ডিপোটি বছরে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার টিইইউএস আমদানি-রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেসরকারি আইসিডিগুলো দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব ডিপোতে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনারে পণ্য বোঝাই, আমদানি পণ্যের কনটেইনার থেকে পণ্য খালাস এবং জাহাজিকরণের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হয়।
তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৩টি বেসরকারি আইসিডিতে প্রতি মাসে প্রায় ৯৫ হাজার টিইইউএস রপ্তানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার, ৫০ হাজার টিইইউএস আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার এবং ৬০ হাজার টিইইউএস খালি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। এসব কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করছে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।