সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন সদস্যরা। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও তাঁদের মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
পরামর্শক কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। কমিটির সদস্যসচিব ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী।
শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের অবস্থান ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কমিটির কাছে শিক্ষকদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত নথিপত্র দেওয়ার পাশাপাশি মৌখিকভাবেও তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অধ্যাপক রাশিদুল হাসান আরও বলেন, কমিটির সদস্যরা শিক্ষকদের বক্তব্য শুনেছেন। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। এর মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল বলেন, শুরু থেকেই তাঁরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড় রয়েছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে আন্দোলন করছেন। বুধবারের বৈঠকে তাঁদের সেই অবস্থানের কথা কমিটিকে জানানো হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ছাত্রদলের ছয় থেকে সাতজন নেতাকর্মী পরামর্শক কমিটির সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে তাঁরা সব সময় কাজ করেন। বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্লাস স্থগিত রয়েছে। উপাচার্য নিয়োগ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও সার্বিক প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁরা কোনো পক্ষের প্রতিপক্ষ হিসেবে আসেননি; বরং অচলাবস্থা নিরসনে নিজেদের মতামত জানাতে এসেছেন।
ওয়াসিফ রাশেদ আরও বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত না মানা এবং উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের বাধা দেওয়ার বিষয়েও তাঁদের বক্তব্য রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই তাঁরা রাজনীতি করেন বলে জানান ছাত্রদল সভাপতি।
মতবিনিময় শেষে ইউজিসির সদস্য ও পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাংবাদিকদের বলেন, চুয়েটের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজতে এ পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম দিনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যও শোনা হবে।
তিনি বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এমন পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।