চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, বোয়ালখালীসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথায় নির্মিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ইউনিটি হসপিটাল।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হাসপাতালের নিজস্ব ভূমিতে শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণে তৃতীয় সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের নবনির্মিত ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করা হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার ডা. তাসনুভা মাসুদ ও ডা. নুরুল আমিন ইমনকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সভায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সামগ্রিক অগ্রগতি সার্বিকভাবে তুলে ধরেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওসমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস আরফিন, নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আযাদ চৌধুরী, অর্থ পরিচালক ফারুক এলাহি এবং অফিস পরিচালক মো. আব্দুর রহিমসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা।
শেয়ারহোল্ডাররা উপস্থিতিতে সভায় হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিকল্পিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রতিটি মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। বিশেষ করে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য স্থানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের সময়, অর্থ এবং নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম ইউনিটি হসপিটাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নির্ভরতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি হাসপাতাল কেবল চিকিৎসা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়- এটি মানুষের আস্থা, নির্ভরতা ও মানবিক সেবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই চট্টগ্রাম ইউনিটি হসপিটালের পরিকল্পনায় রোগীবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সেবা প্রদান, আধুনিক চিকিৎসা-সুবিধা গড়ে তোলা এবং রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, শেয়ারহোল্ডারদের সহযোগিতা এবং সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ইউনিটি হসপিটাল একটি আস্থাশীল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। যেখানে নিশ্চিত করা হবে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় মানসম্মত, সহজলভ্য ও মানবিক চিকিৎসাসেবা।
সভায় হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।