দক্ষিণ পূর্ব

ভুয়া ভাউচারে ৫৫ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, সাবেক চেয়ারম্যানসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫৮ সকাল
পঠিত : ৩১
ভুয়া ভাউচারে ৫৫ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, সাবেক চেয়ারম্যানসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের শ্রমিক দেখিয়ে তাঁদের নামে বরাদ্দের টাকাও তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন ওরফে নয়নসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এনায়েত হোসেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। গত বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলা দুটি করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এনায়েত হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মৃত ও প্রবাসীদের শ্রমিক দেখিয়ে তাঁদের নামে ইজিপিপি প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন। এ ছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাল ভাউচারসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। দুই মামলাতেই এনায়েত হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের পর অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পায় দুদক।

অনুসন্ধানে প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ ভাউচার জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।

ভাউচারে উল্লেখ করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক দুদকের অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন, ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাঁদের নয়। এ ছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের অধিকাংশ স্বাক্ষরও জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ১ শতাংশ করের অর্থে নেওয়া ৫৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাঁদের পারস্পরিক যোগসাজশে এসব প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী।

অন্য মামলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ভুয়া ও মৃত ব্যক্তিদের শ্রমিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তাঁদের নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক প্রকৃত শ্রমিক তাঁদের প্রাপ্য মজুরি থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার এলাকার মোহাম্মদ হারুন ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। অথচ তাঁর মৃত্যুর পরও ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম বিস্মিত হন।

একই এলাকার মোস্তফার মৃত্যুর পরও তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহার।

দুদকের অভিযোগ, মৃত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এভাবে টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও শ্রমিক হিসেবে দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।