চট্টগ্রাম নগরের চটেশ্বরী রোডের কসমোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজিফা কানিজের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে আপাতত নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শফিউল হাসান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। পরে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, হাসপাতালের প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার ও কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
মারা যাওয়া নাজিফা কানিজের স্বামী মোহাম্মদ জাবেদ অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, রাইস টিউব দিয়ে খাবার খাওয়ানোর পর তাঁর স্ত্রীর নিউমোনিয়া হয়। কিন্তু দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি। এতে তাঁর সন্তানদের অল্প বয়সেই মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে।
নাজিফার বাবা জাফর ইকবাল রিটনও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বারবার চিকিৎসকদের ডেকেও সময়মতো সাড়া পাননি তাঁরা।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবু তৈয়ব রাসেল বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় আমরা দুঃখিত। দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চেয়ারম্যান ডা. শফিউল হাসান জানান, হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক করা ও চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে আপাতত নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে মানববন্ধনে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, কয়েকজনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার দায় পুরো প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ কর্মীদের ওপর চাপানো উচিত নয়। তাঁরা নাজিফার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।