২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করায় সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী নুসায়বাকে সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
সোমবার দুপুরে সিডিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নুসায়বার হাতে সম্মাননা তুলে দেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
অনুষ্ঠানে সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যক্ষ, সহকারী শিক্ষক এবং নুসায়বার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল ও সিডিএ সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং) ইঞ্জিনিয়ার জামিল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, “নুসায়বা আমাদের গর্ব। সে শুধু তার মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করেনি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকেও গৌরবান্বিত করেছে। নুসায়বা অনেক বড় হোক, নিজের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে তুলুক—এটাই আমার কামনা।”
তিনি বলেন, সিডিএর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নুসায়বার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর নজির তৈরি হওয়া উচিত। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর প্রত্যেক শিক্ষককে আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনে করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনীতি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন,“আপনারা নুসায়বার মতো আরও মেধাবী মুখ তৈরিতে কাজ করুন। শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে শিক্ষকরা যেমন সম্মানিত হবেন, তেমনি সম্মানিত হবে সিডিএও।”
নিজের পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্যে বেলায়েত হোসেন বলেন, তার মেয়ে ও মেয়ের জামাতা দুজনই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তার মেয়ের জামাতা বাদশা ফয়সাল আব্দুল আজিজ বিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা করছেন এবং বর্তমানে তারা সৌদি আরবে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, এমন সন্তানের বাবা হিসেবে আমি গর্বিত। তারা লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কয়েকদিন আগে আমার জামাতা সৌদি আরবের বাদশার দরবারে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সেই আমন্ত্রণপত্র তিনি আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছেন। সেটি দেখে গর্বে আমার বুক ফুলে উঠেছে।
শিক্ষার্থী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মা-বাবাকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে মেলামেশা করছে, কখন কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজখবর রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত স্থানে গিয়ে বিপথে জড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে তাদের শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় নগরবাসীর প্রতি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার আহ্বান জানান সিডিএ চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে চলারও অনুরোধ করেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন,“আপনারা ভবন নির্মাণ করলে কর্তৃপক্ষের ইমারত বিধিমালা মেনে ভবন নির্মাণ করুন। আইন মেনে চলতে শিখুন। আইন সবার জন্য সমান এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”
অনুষ্ঠানে নুসায়বার সাফল্যের জন্য তার পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিনন্দন জানানো হয়। ভবিষ্যতে নুসায়বা আরও উচ্চতর শিক্ষায় সাফল্য অর্জন করে দেশ ও সমাজের জন্য অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সবাই।
অনুষ্ঠানে নুসায়বাকে ক্রেষ্ট, সনদপত্র ও ১০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড দেওয়া হয়। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জীবনের সেরা মুহুর্ত উল্লেখ করে নুসায়বা সিডিএ চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ইই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।