দক্ষিণ পূর্ব

চসিকের প্রধান নির্বাহী তৌহিদের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ৮ জুলাই ২০২৫
পঠিত :
চসিকের প্রধান নির্বাহী তৌহিদের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
প্রধান প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) শ্রমিক থেকে প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় দুদকের অভিযানের একদিনের মাথায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ তৌহিদুল ইসলামকে অপসারণের দাবি ওঠেছে। তাকে ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ, কমিশন বাণিজ্যের মূলহোতা, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে সংস্থাটির কার্যালয়ের নিচে ‘সচেতন চট্টগ্রামবাসী’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় মানববন্ধনকারীদের হাতে ‘গো তৌহিদ গো’, ‘সিইও শেখ তৌহিদুল ইসলামের অপসারণ চাই’-সহ নানা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। 

জানা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে যোগ দেন শেখ তৌহিদুল ইসলাম। তখন মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, চসিক সিইও শেখ তৌহিদুল ইসলাম পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, কমিশন বাণিজ্যের মূল হোতা এবং দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

এদিকে বিক্ষোভের একপর্যায়ে কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বিক্ষোভস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের কোনো দাবি থাকলে লিখিতভাবে দিন, আমরা মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করবো। তবে দয়া করে পরিবেশ শান্ত রাখুন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করবেন না।’

আন্দোলনকারীরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার সাথে ফোনে যোগাযোগ হয়েছে। তিনি দুই দিনের সময় চেয়ে নিয়েছেন এবং এর মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।

অভিযোগ ও কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তরুণ বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার কিছু দোসর এখনও রয়ে গেছে। তাদের একজন শেখ তৌহিদুল ইসলাম। নামের আগে শেখ, তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট চলছে।’

আরেক আন্দোলনকারী বলেন, ‘তাকে টাকা না দিলে কোনো ফাইল নড়ে না। আওয়ামী লীগের ঠিকাদারদের তিনি প্রকাশ্যে পৃষ্ঠপোষকতা দেন। তাই আমরা তার দাপ্তরিক অপসারণ চাই।’

বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ পূর্বে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে তদন্তের কথাও উঠেছিল, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, কমিশন না দিলে কোনো প্রকল্পে কাজ পাওয়া যায় না। অথচ তিনি এখনো ওই পদে বহাল রয়েছেন।

/রহা

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।