দক্ষিণ পূর্ব

পুলিশ-র‌্যাব পরিচয়ে পার্সেল নিতে গিয়ে কনস্টেবল গ্রেপ্তার, পলাতক সহযোগী

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:০৩ সকাল
পঠিত : ৪৩
পুলিশ-র‌্যাব পরিচয়ে পার্সেল নিতে গিয়ে কনস্টেবল গ্রেপ্তার, পলাতক সহযোগী

আটক

Degchibarictg

চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে এসএ পরিবহনের বুকিং কাউন্টার থেকে তিনটি কার্টন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে কৃষাণ বড়ুয়া (২৭) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় নোটন বড়ুয়া (২৭) নামে তাঁর এক সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার কৃষাণ কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের আইসিটি শাখায় কর্মরত। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। 

এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৪০৬, ৫০৬ ও ৫১১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষাণ ও নোটন একটি মোটরসাইকেলে করে এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার বুকিং কাউন্টারে যান। মোটরসাইকেলটিতে সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত স্টিকার লাগানো ছিল। তাঁদের একজনের পরনে ছিল ইংরেজিতে ‘POLICE’ লেখা নেভি ব্লু রঙের কটি। অন্যজনের পরনে ছিল র‌্যাবের লোগোযুক্ত কালো পোলো শার্ট।

এজাহারে বলা হয়েছে, তাঁরা নিজেদের চাঁদগাঁও থানার ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে কাউন্টারে অবৈধ মালামাল রয়েছে বলে দাবি করেন। এসব মালামাল জব্দ করে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তাঁরা। পাশাপাশি কাউন্টারের কর্মীদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন।

এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, “কাউন্টার থেকে আমাকে টেলিফোন করা হলে আমি ভিডিও কলে কথা বলি। তখন তাঁরা নিজেদের চাঁদগাঁও থানা-পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। কোতোয়ালী থানা-পুলিশ ছাড়া কেন তাঁরা এসেছেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কথা বললে তাঁরা চলে যান।”

তিনি আরও বলেন, “সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত স্টিকার লাগানো একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন লোক আমাদের কাউন্টারে আসেন। তাঁদের একজন পুলিশ লেখা হাফহাতা জ্যাকেট এবং অন্যজন র‌্যাবের লোগোযুক্ত কালো টি-শার্ট পরেছিলেন। তাঁরা নিজেদের পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনটি কার্টন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কর্মীরা বাধা দিলে তাঁদেরও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়।”

এজাহার অনুযায়ী, তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে কাউন্টারের কর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কৃষাণ আবার কাউন্টারে এসে মালামাল নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষাণকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় তাঁর পরনে থাকা ‘POLICE’ লেখা নেভি ব্লু রঙের কটি জব্দ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “গ্রেপ্তার কৃষাণ বড়ুয়া ও পলাতক নোটন বড়ুয়া মিলে এসএ পরিবহন থেকে তিনটি পার্সেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ পেয়ে রাতেই কনস্টেবল কৃষাণকে আটক করা হয়।”

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।