দক্ষিণ পূর্ব

চুয়েট শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের মারধরের অভিযোগ, বিক্ষোভে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৭ দুপুর
পঠিত : ৩৫
চুয়েট শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের মারধরের অভিযোগ, বিক্ষোভে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় ও বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে  চুয়েটগামী বাস থামিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, চলমান আন্দোলনে যোগ দিতে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে চুয়েটগামী একটি বাসে ওঠেন তিনি। পথে মদুনাঘাট এলাকায় বাসটি থামানো হলে পরিস্থিতি দেখতে বাস থেকে নামেন। সেখানে কী ঘটছিল, তা আগে থেকে তাঁর জানা ছিল না।

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কাউকে ফোন করার জন্য মুঠোফোন বের করতেই একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে। এরপর তাঁকে হেনস্তা করার পাশাপাশি জামাকাপড় ধরে টানাটানি করা হয়। একপর্যায়ে চুল ধরে টানাটানি ও মারধর করা হয়। তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়। ছাত্রলীগ ও শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরও জানান, পরিস্থিতির অবনতি হলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাঁকে সহযোগিতা করেন এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। তাঁদের সহায়তায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। হামলার প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আহ্বান জানান তাঁরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, সোমবার সকালে বহিরাগত ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তাঁকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা।

টানা ২১ দিনের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

আর এইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।