দক্ষিণ পূর্ব

চোখের জলে আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বিদায় জানালো চট্টলাবাসী

sathi
sathi
প্রকাশ : ১ মার্চ ২০২৫ ০১:৩০ রাত
পঠিত : ৮
চোখের জলে আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বিদায় জানালো চট্টলাবাসী
Degchibarictg
নিজস্ব প্রতিবেদক 

ভালোবাসা আর চোখের জলে  সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা  আবদুল্লাহ আল নোমানকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন চট্টলাবাসী।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মাঠে বীর চট্টলার বর্ষিয়ান এই রাজনীতিকের ৪র্থ  নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।আছরের নামাজের পর গ্রামের বাড়ি রাউজানের গহিরায় ৫ম জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।আর প্রিয়নেতাকে শেষ বারের মতো একনজর দেখতে চট্টগ্রাম নগর ও বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ  হয়েছিলেন উপস্থিত। জানাযা শেষে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে  রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
জানা যায়,বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দুল্লাহ আল নোমানের মরদেহ হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে আনা হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ রাখা হয় কাজির দেউড়িস্থ ভিআইপি টাওয়ারে।এরপর  শুক্রবার সকাল ৮টায় লাশ চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ৯টায় ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি নেওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সকাল ১১টার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন মাঠে। সেখানে রাখা হয় দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়  ওয়াসার মোড় সংলগ্ন জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে।

বেলা দেড়টার দিকে সরজমিনে দেখা যায়, ওয়াসার মোড়ে মানুষের ভিড়। পাশে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের ভিতরে রাখা হয়েছে দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের মরদেহ। বাইরে চলছে জানাজার প্রস্তুতি। কেউ মাঠে, কেউ রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েছেন জানাজা পড়তে। কেউ কেউ লাইনের বাইরেও ঘুরছেন। ভিন্ন ধর্মের অনেকে আবার জানাজায় আসা নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা করছেন। 

জুমার নামাজ শেষ হতে না হতেই মসজিদ প্রাঙ্গণে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যান বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। কিছুক্ষণ পর মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের মরদেহ নামানো হয় অ্যাম্বুল্যান্স থেকে। প্রিয় নেতার মুখ দেখতে শৃঙ্খলা ভেঙে নেতাকর্মীরা ছুটে যান অ্যাম্বুল্যান্সের সামনে। পরে তাদের শান্ত করে মরদেহ রাখা হয় জানাজার মঞ্চে। তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীরা শুনেন প্রিয়নেতার স্মৃতিচারণ।

এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমীর শাহজাহান চৌধুরী, নগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ,বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন  বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া প্রথম সারিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, নোমানের ছেলে তরুণ রাজনীতিক সাঈদ আল নোমান, জাতীয় পার্টির সোলায়মান আলম শেঠ,নগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর প্রমুখ।

জানাজার আগে বক্তৃতায় বিএনপির জাতীয়  স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নোমান ভাই পরিচ্ছন্ন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন, শ্রমিক রাজনীতি করেছেন। তারপর মূল দলে এসেছেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র একজন মানুষ।

 প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রয়ারি) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় ইন্তেকাল করেন  বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান। ওইদিন ঢাকায় তাঁর ৩ দফা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।তবে তাঁর একমাত্র কন্যার বিদেশ থেকে আসতে দেরি হওয়ায়  দাফনে দুইদিন দেরি হয়।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।