জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটিতে প্রায় ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এতে দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে জাপানের বাজারের অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ থেকে মোট ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৩৪৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক।
এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাপানে ১১৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তী বছরগুলোতে রপ্তানি আয়ে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি কমে ১১৩ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে নতুন অর্থবছরের শুরুতে আবারও রপ্তানি বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) হিসাব অনুযায়ী, জাপান প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করে। বিশাল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনও তুলনামূলক কম। চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসেই জাপান বিশ্ববাজার থেকে ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাপানের মতো অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান তৈরি হলে তৈরি পোশাকশিল্পে বাজার বৈচিত্র্য বাড়বে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও কমানো সম্ভব হবে।
তাঁদের মতে, জাপানি ক্রেতাদের কঠোর মানদণ্ড, পণ্যের গুণগত মান এবং নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী পোশাক সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ জন্য পণ্যের মান বজায় রাখা, ক্রেতাদের চাহিদা বোঝা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্বের অন্যতম বড় পোশাক আমদানির বাজার জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।