চট্টগ্রামে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেছেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা মনে হয় জুলাইয়ের সবকিছু ভুলে গেছেন। গত ১৭ বছরে মানুষের ওপর চালানো নির্যাতন এবং শহীদ আবু সাঈদের রক্তের কথাও তারা ভুলে গেছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ।
বক্তব্যে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইডেন কলেজের পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ যেভাবে বল প্রয়োগ করেছে, তা ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুননাহার হলের ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ওই সময় হলের ভেতরে পুলিশ ও ছাত্রদলের প্রবেশ এবং ছাত্রীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
তিনি বলেন, অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন। সেখানে এক ছাত্রীকে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে বের করা হয়েছে। পুরুষ পুলিশ সদস্যরা ছাত্রীদের গায়ে হাত দিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে ইনকিলাব মঞ্চের এই নেত্রী বলেন, জুলাইয়ের তুলনায় পুলিশ এখন আরও বেশি হিংস্র আচরণ করছে। শ্রমিক আন্দোলনে শ্রমিকদের ওপর, আবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও বল প্রয়োগ করা হচ্ছে। কাকে মারবে আর কাকে মারবে না, সে বিবেচনাও যেন পুলিশের নেই।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের এমন আচরণের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। পুলিশকে কেন এভাবে হিংস্র করে তোলা হচ্ছে, তার জবাবও দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, শিলংয়ে থাকতে ভালো লাগলে তিনি সেখানে ফিরে যেতে পারেন। তাঁর অধীন পুলিশ সদস্যরা কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ছাত্রীদের ওপর বল প্রয়োগ করছেন, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিন দফা দাবি নিয়েই ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রামে এসেছে।
এর আগে জুমার নামাজের পর নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি চেরাগী পাহাড় মোড় প্রদক্ষিণ করে জামাল খান মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।