দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম তরুণ ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। হাদির সমর্থক ও সহানুভূতিশীলদের একটি অংশের দাবি, ভারতের ইন্ধনেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন’র সম্পাদকীয় বলছে, দিল্লির বড় ভাইসুলভ ও কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাবই এর প্রধান কারণ; দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি চাইলে সবাইকে একে-অন্যের সার্বভৌমত্ব মেনে চলতে হবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা চালায় একটি হিন্দুত্ববাদী উগ্র গোষ্ঠী। একই সময়ে ভারতের অন্যান্য শহরেও বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ভারতের উগ্রবাদী সংগঠন ভিএইচপি (বিশ্ব হিন্দু পরিষদ) ময়মনসিংহে এক বাংলাদেশি হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে কূটনৈতিক মিশনে হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে। জবাবে দিল্লিতেও বাংলাদেশি প্রতিনিধি একই ধরনের তলবের মুখে পড়েন। যা কার্যত কূটনৈতিক টানাপড়েনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের শীর্ষ কূটনীতিক মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। অন্যদিকে, ভারত সরকার এসব ঘটনাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে, বিশেষ করে উগ্রবাদী জনতার মাধ্যমে বাংলাদেশি মিশনে হামলার বিষয়টি।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ওয়াজেদের শাসনামলে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ ও সমন্বিত। তবে গত বছর তার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো- প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ভারতের বড়ভাইসুলভ ও কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব। হাদির হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দিল্লির উচিত ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সামপ্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হলে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে। কোনো রাষ্ট্রই নিজেকে আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে অন্যদের ওপর প্রভাব খাটাতে বা ভয় দেখাতে পারে না। এই বাস্তবতা মেনে নেয়াই স্থিতিশীল ভবিষ্যতের একমাত্র পথ।
এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।