দক্ষিণ পূর্ব

তেলের দাম বাড়িয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫১ দুপুর
সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
পঠিত : ৩৩
তেলের দাম বাড়িয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের

ছবি

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় বর্ধিত মূল্য পুনর্বিবেচনা এবং জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ স.উ.ম আবদুস সামাদ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন না। তবে এর সম্পূর্ণ চাপ সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া জনস্বার্থসম্মত নীতি হতে পারে না।

তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন, কৃষি, সেচ, শিল্প ও পণ্য পরিবহন খাতে। এর পরোক্ষ প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসানের কথা সরকার জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে শুধু মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে লোকসান সমন্বয়ের পরিবর্তে জ্বালানি খাতের ক্রয়, আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থার ব্যয় এবং দক্ষতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বিপিসির লোকসান যেমন রাষ্ট্রের জন্য বাস্তব সমস্যা, তেমনি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও রাষ্ট্রের বিবেচনায় রাখতে হবে। জনগণের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে কোনো অর্থনৈতিক সংকটের টেকসই সমাধান হতে পারে না।’

তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফলও দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছ, পূর্বঘোষিত ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য পুনর্বিবেচনা, জ্বালানি খাতে অপচয় ও অদক্ষতা কমানো, কর-শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা এবং কৃষক, নিম্ন আয়ের মানুষ ও প্রয়োজনীয় গণপরিবহন খাতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রাষ্ট্রের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতা রক্ষাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে নয়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে হবে।’

উল্লেখ্য, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নতুন মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।