চট্টগ্রামের পটিয়ায় সিফাতুন নুর মিম (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পটিয়া থানায় নিহতের বাবা মোহাম্মদ নুরের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তাঁর শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের স্বামী ও দুই ননদকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ মাস আগে মিমের সঙ্গে মোহাম্মদ তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় দুই মাস পর তারেক বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের বরাতে পুলিশ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় মিমের মা জহিনুর আক্তার তাঁদের বাড়িতে নাশতা তৈরি করে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে—এমন অভিযোগে মিমের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম ও দুই ননদ সুমি আক্তার এবং রাশেদা বেগম তাঁর মাকে গালিগালাজ ও অপমান করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁরা মিমকেও মারধর করেন এবং আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
পরে মিম বিষয়টি মুঠোফোনে তাঁর স্বামী তারেককে জানালে তিনিও তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং আত্মহত্যা করতে বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পটিয়া উপজেলার ৬ নম্বর কুসুমপুরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইলিয়াছ খাঁর বাড়িতে নিজের শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মিম। পরে শাশুড়ি ও প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।পরে নিহতের বাবার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পটিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, পুলিশের একটি দল মামলা রুজুর আগে রিজিয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয় । পরবর্তীতে মামলার পর আদালতে পাঠানো কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।