দক্ষিণ পূর্ব

পটিয়ায় নাশতা নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৫৬ সকাল
পঠিত : ৩৬
পটিয়ায় নাশতা নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

ছবি

শ্বশুরবাড়িতে নাশতা নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের পটিয়ায়। এ ঘটনার নয় দিন পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নূর সিফাত (২২)। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন নিহতের মা জুহিনুর আক্তার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ নূর ও জুহিনুর আক্তারের মেয়ে সিফাতুনের বিয়ে হয় পটিয়ার পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াস খাঁ বাড়ির বাসিন্দা মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে। তারেক দুবাইপ্রবাসী। বিয়ের কয়েক মাস পর তিনি বিদেশে চলে গেলে সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।

নিহতের মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাশতা নিয়ে যান তিনি। নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে গালাগাল করা হয়। পরে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন জুহিনুর।

এ সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুল ধরে মাটিতে ফেলে দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করেন বলে দাবি পরিবারের।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। ঘটনার পর মারধরের বিষয়টি আড়াল করতে তাঁর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা সাজানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তাঁর বাবা মোহাম্মদ নূর।

জুহিনুর আক্তার জানান, ঘটনার দিন রাতে দুবাই থেকে মেয়ের স্বামী ফোন করে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানান। পরে রাত ১০টার দিকে চমেক হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় আইসিইউতে দেখতে পান তিনি। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়।

মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গৃহবধূকে মারধরের বিষয়ে গত ১৪ অক্টোবর তাঁর মায়ের লিখিত অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর খবরও পুলিশ জেনেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।