চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে মাত্র ১২ সেকেন্ডে এক ব্যবসায়ীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১২ দিন পর মো. হাবিবুল্লাহ খাঁন মানিক (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ইছাকের পুল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাট কাঁচাবাজার রোডের সলিমুল্লাহ শাহ মসজিদ সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী এস এম রফিকুল ইসলাম (৫৭) আতুরার ডিপো এলাকার খাজা ফার্মেসির মালিক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে একটি অটোরিকশা থেকে দুই ব্যক্তি নেমে রফিকুল ইসলামকে ধারালো ছোরা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাঁধে থাকা কালো রঙের ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান তাঁরা।
ব্যাগে একটি ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড রেডমি মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাত্র ১২ সেকেন্ডে ছিনতাইয়ের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫ অক্টোবর পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ২০। দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাকলিয়ার ইছাকের পুল এলাকা থেকে হাবিবুল্লাহ খাঁন মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। প্রাথমিক তদন্তেও তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য যাচাইয়ে মানিকের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বোয়ালখালী থানায় ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা সিআর মামলা (নম্বর ৩৯৮/২৩), কোতোয়ালী থানায় ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর দায়ের করা ছিনতাই-সংক্রান্ত মামলা, বাকলিয়া থানায় ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং চান্দগাঁও থানায় ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন ছিনতাইয়ের মামলাসহ পুলিশের নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
পাঁচলাইশ মডেল থানার এসআই রিয়াদ উছ সালেহীন মামলাটি তদন্ত করছেন। তিনি জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।