চট্টগ্রামের রাউজানে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে হত্যার হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কাপড়ের ওপর সারিবদ্ধভাবে রাখা কয়েকটি পিস্তল দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছো কোথায়। ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি।’ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়, ২০২৩ সালের শেষের দিকের। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই অপরাধীর বিরোধের জেরে পুরোনো ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে প্রদর্শিত সাতটি পিস্তলের মধ্যে কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং কয়েকটি খেলনা পিস্তল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অস্ত্রগুলোর মধ্যে থানা থেকে লুট হওয়া কোনো অস্ত্র নেই বলেও দাবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
বুধবার রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টে অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং থানা থেকে লুট হওয়া বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্র প্রদর্শনকারী হৃদয় হোসেন শাওন ওরফে বুলেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ তুলে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওতে হুমকিদাতা ব্যক্তি রাউজানের ১৪ নম্বর বাগোয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দা হৃদয় হোসেন শাওন ওরফে বুলেট। তাঁর সঙ্গে একই এলাকার আরাফাত মামুনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। একসময় তাঁরা একসঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে হৃদয়ের বাবা বাদশাকে মামুন মারধর করার পর তাঁদের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এরপর দুই পক্ষের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই বিরোধের জের ধরেই মামুনের অনুসারীরা পুরোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হৃদয় ও মামুন দুজনের বিরুদ্ধেই হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। তাঁদের কর্মকাণ্ড এবং অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ২০২৩ সালের শেষের দিকের। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে হৃদয় ভিডিওটি ধারণ করে নিজের মোবাইলে রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিরোধের জেরে মামুন সেটি ছড়িয়ে দেন।
তিনি আরও জানান, ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া কোনো অস্ত্র নেই। এর আগেই অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত দুই বছরে হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ, রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাউজানে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারীদের তৎপরতার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। এর মধ্যে পুরোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।