চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় কাভার্ড ভ্যান থেকে ১৫২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় হয়েছে ১৪ বছর পর। এ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জেসমিন কলি এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা এলাকার জামাল উদ্দিন ও রফিক মিয়া। জামাল উদ্দিন ওই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে এবং রফিক মিয়া হাবিন উল্লাহর ছেলে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাইম হোসেন জানান, মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় তাঁরা কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের পাহাড়তলী থানার সিটি গেট পুলিশ চেকপোস্টের প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় চট্টগ্রাম শহরমুখী একটি কাভার্ড ভ্যানকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক গাড়ি রেখে পালিয়ে যান। পরে ভ্যানের সামনের আসনে থাকা জামাল উদ্দিনকে আটক করা হয়।
পরে কাভার্ড ভ্যানের চালকের কেবিনে তল্লাশি চালিয়ে একটি চটের বস্তা থেকে ১৫২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ১৫ দশমিক ২ লিটার ফেনসিডিল ছিল। এ সময় প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের কাভার্ড ভ্যানটিও জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবু ছালেক পাহাড়তলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।