কক্সবাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে প্রায় ৩০ কিশোর-যুবককে দুটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। তবে কক্সবাজারে না নিয়ে তাদের আনোয়ারার বরুমছড়া এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের ব্যানার। পরে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির সময় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনোয়ারা-বাঁশখালী প্রধান সড়কের বরুমছড়া ইউনিয়নের রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় মিছিলের কাজে ব্যবহৃত দুটি মাইক্রোবাস ও একটি ব্যানার জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আনোয়ারা থানায় মামলা করেছে। মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নেতা শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ এবং ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন ওরফে সাজ্জাদের নেতৃত্বে মিছিল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে মিছিলের জন্য অর্থায়ন ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সকালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোর ও তরুণদের দুটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। তাদের বলা হয়েছিল, কক্সবাজারে বেড়াতে নেওয়া হবে। পরে আনোয়ারার বরুমছড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হাতে ব্যানার ধরিয়ে দিয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
বিষয়টি জানতে পেরে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হওয়ার আগেই ৩০ জনকে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের মধ্যে আটজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ সোপর্দ করার জন্য প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—মো. মিশকাত (১৫), মো. রাকিব (১৫), মো. ছামির (১৫), মো. সজিব (১৬), মো. হাছান (১৫), আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), মিরাজ (১৫) ও রিফাতুল ইসলাম (১৫)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম হোসেন আদালতের কাছে তাদের আটক রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, মামলার তদন্ত এবং একই ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরায় ঠেকাতে এ আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকদের কয়েকজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা কক্সবাজার ভ্রমণের কথা শুনেই মাইক্রোবাসে উঠেছিল। আনোয়ারায় পৌঁছানোর পর সেখানে মিছিলের আয়োজনের বিষয়টি জানতে পারে তারা। তবে পুলিশের দাবি, আটকদের মধ্যে কেউ কেউ আগে থেকেই মিছিলের বিষয়টি জানত।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ডিবি পুলিশের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে ।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।