চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ১১ দিনের ব্যবধানে একটি বাড়িতে ডাকাতি এবং দুটি বাড়ি ও একটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এসব ঘটনায় স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মন্দিরের গয়না খোয়া গেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাহাদুরের বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে।
পরিবারের দাবি, ওই বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে চোরেরা।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়কের শ্রী শ্রী মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরে চুরি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরের গয়না ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোররাতে পাইন্দং ইউনিয়নের ঘোগিনাঘাটা এলাকায় একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, আড়াই লাখ টাকা ও তিনটি মুঠোফোন নিয়ে যায় ডাকাতেরা।
এ ছাড়া গত ১১ সেপ্টেম্বর কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মো. মোবারক হোসেন ওরফে টেস্টার মোবারক কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ১০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব ঘটনা ঘটায় রাতে বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশেষ করে যেসব বাড়িতে পুরুষ সদস্য কম এবং জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে, সেসব বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের দুশ্চিন্তা বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।কেউ
কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।