গত ৭ নভেম্বর ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন সামিরা খান মাহি। গত বছরের বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলার হাত থেকে মুকুট গ্রহণ করেন তিনি। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।
মাহির শোবিজে পথচলা শুরু হয়েছিল মডেলিং দিয়ে। ২০১৪ সালে ‘রঙ আরটিভি ২০-২০ কালারস মডেল সার্চ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম রানারআপ হন তিনি। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে মডেলিং জগতে পরিচিতি পান। এরপর ফ্যাশন শো, র্যাম্প, বিজ্ঞাপনচিত্র ও ফটোশুটে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর পরিচিতি।
র্যাম্পে হাঁটা, ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপন এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন মাহি। মডেলিং করতে গিয়ে শিখেছেন ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং সাবলীলভাবে নিজেকে উপস্থাপনের কৌশল।
তবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। অসুস্থতার কারণে প্রায় তিন বছর কাজ থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল। এই বিরতি পেশাগত জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও হাল ছাড়েননি তিনি। বিরতি শেষে নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
মডেলিংয়ের পর অভিনয়ে আসার পরিকল্পনা শুরু থেকেই ছিল না মাহির। করোনা মহামারির সময় অভিনয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। প্রস্তুতি ও শেখার মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের শেষ দিকে নাটকে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিনয়ে ব্যস্ততা বাড়ে। একপর্যায়ে মাত্র ছয় মাসে ৩০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেন তিনি।
অভিনয়জীবনে ‘গার্লস স্কোয়াড’ মাহির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁক। এই কাজের মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিতি পান তিনি। এরপর ‘হাঙর’সহ বিভিন্ন নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করেন। মডেল পরিচয়ের পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেন।
২০২৫ সাল পর্যন্ত ১২০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন মাহি। তবে শুধু কাজের সংখ্যা বাড়ানোই তাঁর লক্ষ্য নয়। চরিত্রে বৈচিত্র্য আনতে চান তিনি। গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রের বাইরে ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার আগ্রহ রয়েছে তাঁর।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন মাহি। তাঁর সাজপোশাক, চেহারা ও ব্যক্তিগত লুক নিয়ে হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। মেকআপ ছাড়া ছবি প্রকাশ করেও নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এসবের বাইরে নিজের কাজ ও পরিচিতি গড়ে তোলাতেই মনোযোগী থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। নিজের পছন্দ ও আত্মবিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়েছেন সব সময়।
মডেলিং ও অভিনয়ের পর এবার তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন এক অর্জন—‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ বিজয়ী। দেশের মঞ্চে মুকুট জয়ের পর এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিতে হবে তাঁকে।
সেখানে শুধু নিজের সৌন্দর্য কিংবা ব্যক্তিত্ব নয়, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নারীদের প্রতিনিধিত্ব করার প্রত্যাশাও থাকবে তাঁর ওপর। বাবা-মায়ের উৎসাহও হয়ে উঠেছে নতুন যাত্রার প্রেরণা। তাঁদের প্রত্যাশা, ‘যাও, বিশ্ব জয় করে আসো।’
র্যাম্পের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া সামিরা খান মাহির এই যাত্রা এবার পৌঁছাতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারেন, এখন সেই অপেক্ষা।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।