দক্ষিণ পূর্ব

ফসফরিক অ্যাসিডের সংকটে ডিএপি কারখানায় ২০ দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
ফসফরিক অ্যাসিডের সংকটে ডিএপি কারখানায় ২০ দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদকচট্টগ্রাম 

ফসফরিক অ্যাসিডের তীব্র সংকটে টানা ২০ দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

 

দেশের কৃষিখাতে ব্যবহৃত ডিএপি সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

 

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড সরবরাহে দরপত্র আহ্বান করে। এতে কার্যাদেশ পায় মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ চুক্তি অনুযায়ী জুন মাসের মধ্যেই কাঁচামাল সরবরাহ করার কথা ছিল।

 

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় জর্ডানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ফসফরিক অ্যাসিড আমদানি সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পৌঁছায় উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে কাঁচামালের সংকট কাটাতে বিসিআইসি গত ৮ জুন ও ২৩ জুন নতুন করে দুটি দরপত্র আহ্বান করলেও কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে আরও দুটি নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর একটি আগামী ৮ আগস্ট এবং অন্যটি ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।

 

ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, "কারখানা সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড প্রয়োজন হয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।"

 

তিনি আরও বলেন, "যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ চুক্তি অনুযায়ী ফসফরিক অ্যাসিড সরবরাহ করতে পারেনি। তবে তাদের সঙ্গে করা চুক্তি এখনো বাতিল করা হয়নি। কাঁচামাল সরবরাহ শুরু হলেই পুনরায় সার উৎপাদন চালু করা হবে।"

 

দক্ষিণপূর্ব/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।