একটি মুঠোফোন, অচেনা একজনের সঙ্গে পরিচয়, তারপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের টানেই একসময় পরিচিত ঘর, আপনজন আর চেনা পৃথিবী ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল ১৫ বছরের কিশোরী আসিফা আক্তার। হয়তো নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল সে। কিন্তু বাড়ি ছাড়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সেই জীবনেরই করুণ পরিণতির খবর এলো—আসিফা আর নেই।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হেঁয়াকো এলাকার বাসিন্দা আসিফার মৃত্যু হয়েছে হাটহাজারীতে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটে এ ঘটনা। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে এখনো তৈরি হয়নি স্পষ্ট কোনো চিত্র। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় মাস আগে মুঠোফোনে পরিচয় হয় আসিফার সঙ্গে ইমরান হোসেনের। ইমরানের বয়স ১৭ বছর। তিনি পেশায় জিপ গাড়ির হেলপার। পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই বাড়ি ছাড়ে আসিফা। চলে যায় ইমরানের সঙ্গে তার পরিবারের বাসায়।
পরিচয়ের প্রায় এক মাসের মাথায় নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের পর কেটে যায় ১৫ দিন। কিন্তু নতুন ঠিকানায় আসিফার দিনগুলো কেমন কাটছিল, কী ছিল তার স্বপ্ন কিংবা পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবস্থা—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
ইমরানের মা নাসিমা আক্তার জানান, আসিফা ও ইমরান একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে এলেও তাদের বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চূড়ান্ত হয়নি। আসিফার পরিবারের কেউ তাদের বাসায় না গেলেও তার খালার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নাসিমা আক্তারের ভাষ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় আসিফা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে এটি তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্য। মৃত্যুর পেছনে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আসিফার মৃত্যুর পর থেকে ইমরান পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আরও নানা প্রশ্ন। তবে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশের আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হান্নান মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আজগর আলী/আরএইচ/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।