দক্ষিণ পূর্ব

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে এভারকেয়ার চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০০ দুপুর
পঠিত : ৩১
বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে এভারকেয়ার চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

ছবি

Degchibarictg

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হসপিটালে পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘এভরি মিনিট কাউন্টস’ সামনে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাক্ট-ফাস্ট’ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ—এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কাউল বলেন, স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যেখানে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে, চিকিৎসা নিতে দেরি হলে জটিলতা ও ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ এবং এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে সবার সচেতন থাকা জরুরি। বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত পেশেন্ট ফোরাম ও র‍্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশের মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য স্ট্রোকের চিকিৎসায় সময়ের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। লক্ষণ শনাক্ত করতে দেরি হলে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে, এমনকি জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই স্ট্রোক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. আনিসুল ইসলাম খান বলেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী থ্রম্বোলাইসিস বা অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব। এ কারণে স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতি চারজনের একজনের জীবদ্দশায় স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অবশভাব এবং কথা জড়িয়ে যাওয়া স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ। স্ট্রোক হলে প্রতি মিনিটে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। তাই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে রোগীর জীবন রক্ষা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতেই এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পেশেন্ট ফোরামে আরও উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আমিনুর রহমান (আজাদ), নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম চৌধুরীসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

পেশেন্ট ফোরাম শেষে অতিথি, চিকিৎসক, মেডিকেল স্টাফ, রোগীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালির মাধ্যমে স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা, জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ এবং সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার বার্তা দেওয়া হয়।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।