সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি রাতের খাবার ও ঘুমের সময়ের ব্যবধানের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। রাতের খাবারের পর ক্ষুধা লাগলে ঘুমানোর আগে হালকা কিছু খাওয়া যেতে পারে। তবে এ সময় কী খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ঘুমের আরাম ও হজমের স্বস্তি।
সারা দিনের খাবার সুষমভাবে ভাগ করে খেলে অতিরিক্ত ক্ষুধা ও একসঙ্গে বেশি খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। রাতের খাবার খুব দেরিতে না খাওয়া এবং ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলাও ভালো।
বিশেষ করে রাতে ক্ষুধা লাগলে অল্প পরিমাণে সহজপাচ্য খাবার খেতে পারেন। তবে সবার ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ক্ষুধা না থাকলে জোর করে খাওয়ারও দরকার নেই।
১. এক কাপ দুধ
দুধে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে। রাতে ক্ষুধা লাগলে এক কাপ দুধ ভালো বিকল্প হতে পারে। যাঁদের দুধ খেলে পেটের সমস্যা হয়, তাঁরা এটি এড়িয়ে চলুন।
২. টক দই
টক দইয়ে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। চিনি ছাড়া অল্প পরিমাণে টক দই খেতে পারেন।
৩. আপেল বা নাশপাতি
এসব ফলে আঁশ ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। রাতে হালকা ক্ষুধা মেটাতে একটি ছোট আপেল বা নাশপাতি খাওয়া যেতে পারে।
৪. সবজির স্যুপ
কম তেল ও লবণ দিয়ে তৈরি এক বাটি সবজির স্যুপ হালকা খাবার হিসেবে উপযোগী। এতে বিভিন্ন সবজির পুষ্টি পাওয়া যায়।
৫. অল্প বাদাম ও কিশমিশ
বাদামে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিন থাকে। তবে বাদামে ক্যালরি বেশি, তাই একমুঠোর চেয়ে কম পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
৬. হোলগ্রেইন ক্র্যাকার ও পনির
অল্প কয়েকটি হোলগ্রেইন ক্র্যাকার ও সামান্য পনির খেলে শর্করা ও প্রোটিনের সমন্বয় পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার।
বেশি ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার।
অতিরিক্ত মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি ও চিনিযুক্ত পানীয়।
চা, কফি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়।
একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার।
এসব খাবার কারও কারও ক্ষেত্রে বুকজ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যাঁদের বুকজ্বালার সমস্যা আছে, তাঁদের ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উপকারী হতে পারে।
ডায়াবেটিসের রোগীদের ঘুমানোর আগে খাবার প্রয়োজন কি না, তা নির্ভর করে তাঁদের ওষুধ, ইনসুলিন, রক্তে শর্করার মাত্রা ও রাতের খাবারের ওপর। সবার জন্য নিয়মিত ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়া জরুরি নয়। যাঁদের রাতে রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করবেন।
মনে রাখবেন: ঘুমানোর আগে হালকা খাবার খাওয়া যেতে পারে, তবে এটি ভালো ঘুমের নিশ্চয়তা দেয় না। সঠিক সময়ে রাতের খাবার খাওয়া, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘুমের রুটিন অনুসরণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এসআই/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।