দক্ষিণ পূর্ব

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬
পঠিত :
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা

ধ্বংসাবশেষে প্রিয়জনদের খুঁজে ফিরছেন কারাকাসবাসী। ছবি: এপি/ইউএনবি

পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ইয়ারাকুই অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকার কাছে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলের কাছাকাছি স্থানে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই বিরল ঘটনাকে ‘ডাবলেট’ ভূমিকম্প হিসেবে বর্ণনা করেছে।

 

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চল। প্রবল কম্পনে রাজধানী কারাকাসসহ লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন অঙ্গরাজ্যের বহু ভবন, সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েন।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পের পর থেকে অন্তত ২০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

 

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানও স্থগিত করা হয়েছে।

 

ভূমিকম্পের কারণে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি এড়াতে কিছু এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি এটিকে গত এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালে ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। বর্তমান ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি সেই ঘটনার পর দেশটির অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

ভূমিকম্পের পর মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া, এল সালভাদরসহ বিভিন্ন দেশ ভেনেজুয়েলার প্রতি সমবেদনা ও সহায়তার আশ্বাস জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে।

 

আরএইচ/ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।