দক্ষিণ পূর্ব

সেপ্টেম্বর থেকে যাওয়া শুরু

মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার যাবে বিনা খরচে

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
পঠিত : ২৯
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার যাবে বিনা খরচে

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমান

বাংলাদেশ থেকে আগামী মাসের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় দুই লাখ শ্রমিক পাঠানো শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে এসব শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। এর বাইরে আরও ১০ হাজার শ্রমিককে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পাঠানো হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেখছে। সৌজন্য সাক্ষাতে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বিষয়টি তাঁদের অবহিত করেছেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, পলিমার মডিফাইড বিটুমিন বা রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। বর্ষাকালে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে এ প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও রাবারযুক্ত বিটুমিন ব্যবহারের কারণে তাদের সড়ক তুলনামূলকভাবে টেকসই। বাংলাদেশেও পর্যায়ক্রমে অন্তত ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে মালয়েশিয়ার কারিগরি সহযোগিতা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালাল ফুডসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব খাতে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার তাঁদের জানিয়েছেন।

ই-রিকশার নিবন্ধন ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বুয়েট কিংবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগের প্রত্যয়ন এবং ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না।

সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা ই-রিকশার নিবন্ধন দেবে। তবে মূল সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে দ্রুতই এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ই-রিকশার উৎপাদনেও নিয়ন্ত্রণ আনা হবে। বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোম্পানিকে ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকেও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতেও নিয়ন্ত্রণ আনার কথা জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করারও উদ্যোগ থাকবে। চার্জিং পয়েন্টগুলোকে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

ঢাকার ই-রিকশা চলাচল নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি করে মোট আটটি জোন করা হতে পারে। প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে এবং একটি জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

গ্রামীণ এলাকায় চার ও ছয় যাত্রীর ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হবে। আর ঢাকা শহরে দুই ও চার যাত্রীর ই-রিকশা নিবন্ধন পাবে। এসব যানবাহন অবশ্যই বুয়েট বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।