বিশেষ প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবী দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।আর সেই পদত্যাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন গুঞ্জন।
বুধবার (১১ জুন) সকালে ফারুক হোসাইন নুরনবী জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুম আমিন ভূঁইয়ার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।আর
বিকেল ৩টার দিকে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এ আর হাফিজ উল্যাহকে সেক্রেটারি মনোনীত করা হয়।
এদিকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবীর পদত্যাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন গুঞ্জন।এরমধ্যে একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছেন,লক্ষীপুর সদর আসন থেকে জামায়াতের এমপি প্রার্থী ও সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সাথে জেলা সেক্রেটারির বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য চলছিলো।এরমধ্যে সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে জামায়াত নেতা ও মসজিদের ইমাম কাউছার আহমেদ নিহত হওয়ার পর আন্দোলন করা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে পদত্যাগ করেছেন জেলা সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন।
তবে জানতে চাইলে পদত্যাগী জামায়াত নেতা ফারুক হোসাইন নুরনবী বলেন, ‘দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। কিন্তু জামায়াত ইসলামের সঙ্গে আছি এবং থাকব। জেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদের দায়িত্বে আছি।’
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ বলেন, জেলা সেক্রেটারি পারিবারিক ও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়েছেন। পরে জামায়াতের আমির তা গ্রহণ করে নতুন সেক্রেটারি মনোনীত করেছেন।
জানা যায়,গত ৫ জুন সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকায় স্থানীয় জামায়াত নেতা ও মসজিদের ইমাম কাউছার আহমেদ বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত হন। এ ঘটনায় বিএনপির ১২ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে সদর থানায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় চট্টগ্রাম থেকে মো. বাবুল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর জেরে গত সোমবার জেলা বিএনপির ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগ করে বলেন, স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে অস্থিতিশীল করছে জামায়াত। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
পরদিন বিএনপিকে দায়ী করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জেলা জামায়াত। এতে জামায়াত নেতা ড. রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, মসজিদের ইমাম ও জামায়াত নেতা কাউছার আহমেদ মিলনকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না।
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের দায়ী করেন তিনি। পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর এই জামায়াত নেতার পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরে বিভাজন তৈরি হয়।মূলত তৎকালীন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সেক্রেটারি জেনারেল শিশির মোহাম্মদ মনিরের নেতৃত্বে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের বড় একটি অংশ পদত্যাগ করেন।ওই ঘটনা আদর্শবাদী ও ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন বলে পরিচিত শিবিরের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে ধরা হয়।সেই রেজাউল করিমই এখন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য পদে আছেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।