শ্রমিক হত্যা, তেল-গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, দেশব্যাপী অরাজকতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিডিয়া ট্রায়ালের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপি চট্টগ্রাম ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে নগরীর আগ্রাবাদ মোড় থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি চৌমুহনী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে ‘গ্যাসের দাম কমিয়ে দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবশক্তির আহ্বায়ক বখতিয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান রোহান। এতে বক্তব্য দেন মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওসমান গনি, যুগ্ম সদস্যসচিব ইকবাল মাসুদ, সাদিয়া আফরিন ও সরওয়ার কামাল, কোষাধ্যক্ষ এমদাদ হোসেন এবং খুলশী থানা এনসিপির সদস্যসচিব সাকিব মিয়াজিসহ অন্য নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে ন্যায্য অধিকার আদায়ের কথা বলায় শ্রমিকদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। শ্রমিকশক্তির নেতাদের ওপর হামলা এবং এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে যৌক্তিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
বক্তারা অবিলম্বে শ্রমিক হত্যা ও হামলার বিচার, দেশব্যাপী অরাজকতা বন্ধ এবং তেল-গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ সময় এনসিপি নেতা এ কে এম জিয়াউদ্দিন রনির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগেরও সমালোচনা করেন বক্তারা। তারা বলেন, এনসিপিতে যোগ দেওয়াই জিয়া রনির সবচেয়ে বড় ভুল। তিনি বিএনপিতে যোগ দিলে তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হতো।
বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ডোনার ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীরের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত জসিম উদ্দীনকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য করেছে। অথচ তাঁরাই অন্যদের নিয়ে সমালোচনা করছেন। তাঁদের দাবি, যেদিন ওয়াসিম আহত হন, সেদিন জিয়া রনি বাংলাদেশেই ছিলেন না।
মিছিলে এনসিপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মশাল হাতে অংশ নেন। এ সময় তাঁরা শ্রমিক হত্যা, হামলা ও অরাজকতা বন্ধের পাশাপাশি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।