দক্ষিণ পূর্ব

সাজেক সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ, হেডম্যান-কারবারিদের নিয়ে কমিটি

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৮ সকাল
পঠিত : ৪৬
সাজেক সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ, হেডম্যান-কারবারিদের নিয়ে কমিটি
Degchibarictg
রাঙামাটির সাজেকে চলমান সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও প্রশাসন। এ লক্ষ্যে স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পাঁচ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের নেপথ্যে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হেডম্যান ও কারবারিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় পাহাড়ের চলমান অস্থিরতা নিরসনে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। 

সভায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপ, স্থানীয় নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা এবং পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে। তবে কমিটি গঠনের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের আলোচনার টেবিলে আনা এবং সাজেকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, পাহাড়ের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি বন্ধ, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, পাহাড়ের সংকট নিরসনে সরকার জাতীয় পর্যায়ে তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধান খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন, সার্কেলপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

কমিটিতে আন্দোলনকারীদের রাখা হয়নি কেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনায় একদিকে থাকবে সরকার, অন্যদিকে স্থানীয় অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সবাইকে একই কমিটিতে রাখা হলে আলোচনার কাঠামো কী হবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

আন্দোলনের কারণে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তাঁর প্রত্যাশা, আলোচনার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পথ তৈরি হবে।

সাজেকের সংকট নিরসনে আলোচনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপে বসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আলোচনায় আনার চেষ্টা চলছে। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

কার সঙ্গে আলোচনা করা হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি উল্লেখ করে দীপেন দেওয়ান বলেন, সরকার আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি; বরং সংলাপের মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। দ্রুত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হলে সংকট নিরসনের পথ বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষকে সরিয়ে অন্য পক্ষকে আলোচনায় বসানোর দাবি দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উপস্থিতি ও পারস্পরিক বিরোধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনকে আইনানুগভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

এদিকে সাজেকের আন্দোলনে ব্যবহৃত ব্যানার, নেতৃত্ব ও দাবিগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত হেডম্যান-কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারটি সংগঠনের নয় বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কারবারিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে।

এ বিতর্ক আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষে কারা কথা বলছেন, দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অবস্থান কী এবং আলোচনায় কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন—সংকট নিরসনে এসব বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

রোববারের সভায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং হেডম্যান-কারবারিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে আলোচনার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাজেকের সংকট এখন কেবল রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে পর্যটন, পরিবহন, আবাসন, খাবারের দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকায়। পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং পর্যটননির্ভর অন্যান্য পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।