দক্ষিণ পূর্ব

সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছি: ডা. শাহাদাত

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৩:১১ দুপুর
পঠিত : ৩৪
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছি: ডা. শাহাদাত

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রাম নগরীকে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও সম্প্রীতিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে এমন একটি ‘রেইনবো সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে ধর্ম-বর্ণ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের সিইপিজেড এলাকায় বেপজা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম মৈত্রী বন বিহারের উদ্যোগে আয়োজিত ১৬তম কঠিন চীবর দানোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এ নগরীর অন্যতম শক্তি। শত শত বছর ধরে এখানে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। এই ঐতিহ্য ধরে রেখে সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন নগর গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, একটি শহরের উন্নয়ন শুধু বড় ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা আধুনিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। নগরীর মানুষ কতটা নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন এবং কতটা মর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করছেন, সেটিও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

চসিক প্রশাসক বলেন, নগরীকে ‘গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা শুধু প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সবাইকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সব ধর্মই মানুষকে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও শান্তির শিক্ষা দেয়। অন্যের প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং ভালোবাসা ও অধিকারকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটে।

বৌদ্ধধর্মের অহিংসা, মৈত্রী ও করুণার শিক্ষার উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বুদ্ধের শিক্ষা মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তি ও সহমর্মিতার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। কঠিন চীবর দান শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি দানশীলতা, ত্যাগ, সংযম ও মানবকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে।

তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ, মত কিংবা বিশ্বাসের ভিন্নতা যেন কারও অধিকার ও নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা না হয়। নাগরিক সেবা, উন্নয়ন ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সবাইকে সমান গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে পুণ্যবান ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির, জ্যেষ্ঠ আবাসিক ভিক্ষু সৌরজগত মহাস্থবির এবং চট্টগ্রাম মৈত্রী বন বিহারের অধ্যক্ষ বিজ্ঞানানন্দ মহাস্থবিরসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা। এ সময় বৌদ্ধধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।