দক্ষিণ পূর্ব

৭ নভেম্বরের চেতনা থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছিল: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬ ০১:০০ দুপুর
পঠিত : ৩০
৭ নভেম্বরের চেতনা থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছিল: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন  ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন । তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকেই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার প্রশ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অসীম সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন। নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর সাহসী ভূমিকা ও দেশপ্রেমের কারণেই বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নানা সংকটের মধ্যে একটি সশস্ত্র চক্রান্তের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আটক করা হয়েছিল। সেই সংকটময় পরিস্থিতিতে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁকে মুক্ত করেন এবং দেশের দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ করে দেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।

মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সব দলের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। এমনকি একদলীয় শাসনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা আওয়ামী লীগকেও বহুদলীয় গণতন্ত্রের আওতায় রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ইতিহাসের মহানায়ক কাগজে-কলমে তৈরি করা যায় না; মানুষের জন্য অবদান, দেশপ্রেম ও ঐতিহাসিক ভূমিকার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক অবদানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান তিনটি ভিত্তি কৃষি, বৈদেশিক রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্প। এসব খাতের বিকাশ ও সম্প্রসারণে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করতে ভূমিকা রেখেছে। তবে দীর্ঘ সময় পরও এসব খাতের বাইরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক ও গতিশীল করতে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি, বিশেষায়িত শিল্পখাত ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। অথচ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং ন্যায্য বেতন ও সম্মানী প্রদান অত্যন্ত জরুরি। নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা গেলে দেশের অর্থনীতি নতুন শক্তি পাবে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকারের ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন ও পারিবারিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।

৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, এ দিনের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে যে দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকলে একটি দেশের সংকট উত্তরণ সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে তাদের যথাযথভাবে জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দেশের মানুষের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের চিন্তা, পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশের স্বার্থ। দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ। এই জাতীয় চেতনাকে ধারণ করেই দেশ গঠনে এগিয়ে যেতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন।

এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। 

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।