দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
প্রথমবারের মতো নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি সমুদ্রগামী জাহাজ হাতে পেতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। চীনে তৈরি হওয়া জাহাজ দুটি সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি হেলনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস। সরকারি সব ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় গতকাল রোববার রাতে হেলনিকের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি করেছে শিপিং কর্পোরেশন।
‘বাংলার প্রগতি’ ও ‘বাংলার নবযাত্রা’ নামে জাহাজ দুটি চলতি বছরেই বিএসসির বহরে যুক্ত হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। জাহাজ দুটি কিনতে ব্যয় হচ্ছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৯৮ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৩৫ কোটি টাকার মতো। জাহাজ দুটি থেকে বছরে ১৫০ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করছে বিএসইসি।
জাহাজ দুটি বিএসসির বহরে যুক্ত হলে বছরে ১৫০ কোটি টাকা আয় বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে জাহাজ কেনা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে দেশের শিপিং ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।’
নতুন দুটি জাহাজ শিপিং করপোরেশনে যুক্ত হলে বছরে ১৫০ কোটি টাকা আয় বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর ফলে বিএসসির নিজস্ব পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডিডব্লিউটি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সমুদ্র বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে।’
জানা যায়, বিএসসির বহরে যুক্ত হতে যাওয়া জাহাজ দুটি জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিচালন দক্ষতা বেশি। এছাড়া এর প্রধান ইঞ্জিন থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যা পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। এসব জাহাজে উচ্চমানের ইউরোপীয় ও জাপানি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। জার্মান লাইসেন্সে জাহাজগুলো চীনে উৎপাদন করা হয়েছে। এতে স্পেনে তৈরি পাম্প ও নরওয়ের কম্প্রেসার ব্যবহার করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম জাহাজটি অক্টোবরে ও দ্বিতীয় জাহাজটি ডিসেম্বরে বিএসসির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরো তিনটি জাহাজ কেনার কথা জানিয়েছে বিএসসি। সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের সময়ে শিপিং করপোরেশনের জন্য পাঁচটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলো যুক্ত হলে বিএসসি কেবল আয়ের দিক থেকেই লাভবান হবে না বরং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাজারে ‘গ্রিন শিপিং নেশন’ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরো মজবুত হবে।
এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।