মো. মঈনুল আলম ছোটন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন ও মজলুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান দেশনায়ক তারেক রহমান আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অগ্রনায়ক। তার নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি ও দেশপ্রেম বিএনপি তথা বাংলাদেশের রাজনীতিকে দিয়েছে নতুন প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকারের পতন আন্দোলনে তার ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনে তারেক রহমান অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইকে তিনি শুধু বিএনপি নয়, গোটা জাতির অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন হিসেবে দেখেছেন। আন্দোলনকালীন সময়ে তারেক রহমানের প্রতিটি নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কর্মীদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সাংগঠনিক শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তারেক রহমান সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। বর্তমানে ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠন পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলমান। এছাড়াও তিনি বার বার ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের কথা বলেছেন। একইসাথে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী, চাঁদাবাজি বা অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে সারা দেশে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ৫ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ তার নীতি-আদর্শের স্পষ্ট প্রমাণ।
আইনি সহায়তা ও শহীদ-গুম পরিবারের পাশে থাকা
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে আওয়ামী প্রতিহিংসার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন তারেক রহমান। তিনি মামলা থেকে মুক্তির জন্য “লিগ্যাল এইড কমিটি” গঠন করেছেন, যা প্রতিটি মামলার আইনি সহায়তা নিশ্চিত করছে। একইসাথে আন্দোলনে আহত, নিহত ও খুন-গুম হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন।
রাজনৈতিক সহমর্মিতা ও গণতান্ত্রিক ঐক্য
তারেক রহমান ৫ আগস্টের গণতন্ত্র রক্ষার বিজয়কে শুধু বিএনপির অর্জন হিসেবে দেখেননি। ছাত্র-জনতা ও গণতন্ত্রকামী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিও তিনি দেখিয়েছেন অসীম সহৃদয়তা। তিনি বিশ্বাস করেন—গণতন্ত্র রক্ষায় সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তার দর্শন হলো, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, জনগণের ভোটেই জনগণের সরকার গঠন করতে হবে। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্যকোন দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভিশন
তারেক রহমানের স্বপ্ন একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এই চিন্তাকে ধারণ করেই তিনি ঐতিহাসিক ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এতে রয়েছে, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার, দুর্নীতি দমন, জবাবদিহিতা, প্রশাসনিক কাঠামোর আধুনিকায়ন। কৃষি খাতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তি কৃষিতে প্রয়োগ, শিক্ষা-চিকিৎসা খাতে আধুনিক কারিকুলাম ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, সুলভ স্বাস্থ্যসেবা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন তার ভিশনের অন্তর্ভুক্ত।
জুলাই সনদ ও জুলাই বিপ্লবে অবদান
গণতন্ত্র রক্ষার ঐতিহাসিক জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির পক্ষ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা ও কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন তারেক রহমান। জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের তিনি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং এটিকে গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অনন্য অর্জন হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
দেশনায়ক তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের কোটি মানুষের কাছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশার প্রতীক। শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি শুধু বিএনপির নেতৃত্বই দিচ্ছেন না, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বুনছেন। তার দূরদর্শী পরিকল্পনা, নীতি-আদর্শ ও অদম্য সাহসই একদিন বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাবান রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করবে- ইনশাআল্লাহ।
লেখক: আহ্বায়ক, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ,
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা।
সাবেক সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত),
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
ইই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।