দক্ষিণ পূর্ব

বাণিজ্যিক মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ স্থগিতের পুন:বিবেচনার দাবি

sathi
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৫
পঠিত :
বাণিজ্যিক মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ স্থগিতের পুন:বিবেচনার দাবি
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক 

বাণিজ্যিক মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ এর স্থগিত পুন:বিবেচনার দাবি জানিয়েছে পরিবহন সংক্রান্ত সংগঠন।  আজ রবিবার (২২ জুন) চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির সম্মেলন কক্ষে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় এমন দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বা সভাপতি কাপ্তাই বাস মালিক সমিতি মোরশেদুল আলম কাদেরী। 

সভায় নেতারা বলেন, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনে বহু সাংঘর্ষিক ধারা রয়েছে, যা গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য প্রতিবন্ধক। এর ফলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গত ১৯ জুন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ধারা ৩৬-এর ক্ষমতার বলে সড়ক পরিবহন, সেতু মন্ত্রণালয় ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ (বিশ) বছর, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এতে করে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই, চট্টগ্রাম- রাউজান, চট্টগ্রাম- নাজিরহাট, চট্টগ্রাম-আনোয়ারা বাঁশখালি, চট্টগ্রাম-শুভপুর চলাচল রত রুটে ৩০০০এর অধিক বাস, ৫০০০ পণ্য পরিবহন গাড়ি স্ক্রাপ নীতির আওতায় বন্ধ হয়ে যাবে। 

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এই পরিস্থিতি আর্ন্তজাতিকভাবে যন্ত্রাংশের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরিবহন মালিকরা দিশেহারা। এই অবস্থায় প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়ন হলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে পরিবহন মালিক শ্রমিকগণ। উল্লেখিত সড়কগুলোর চলাচলরত গাড়ীগুলো স্ক্রাপ নীতির আওয়ায় বন্ধ হয়ে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় জনসাধারণের ভোগান্তির সৃষ্টি হবে। গত ১ জুলাই হতে প্রজ্ঞাপনটি কার্যকর হলে অতি অল্প সময়ে পরিবহন মালিকগণ গাড়ী ক্রয় করে সড়কে নামানো সম্ভব নয়। সড়কে আরও বিশৃঙ্খলা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরুপ প্রভাব পড়বে। 

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিকল্পিত পরিবহন মালিকবান্ধব ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ মোটরযান নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবী জানায় এবং ২০২৫-২০২৬ বাণিজ্যিক গাড়ীর অগ্রিম আয়কর কার্যকর না করা আরোপিত আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের শুল্কহার কমানো এবং জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করে পরিবহন মালিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যেমে উক্ত সংকট হতে উত্তোলনের দাবী জানায়।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার সংস্কারমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে সড়ক আইন-২০১৮ পরিবহন আইনের প্রয়োগে বৈষম্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, চলমান সংকট নিরসনে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দফতরে স্মারকলিপি প্রদান করবে ঐক্য পরিষদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলি আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোহেল, চট্টগ্রাম রাঙামাটি মটর মালিক সভাপতি সৈয়দ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান সোহেল, চট্টগ্রাম নাজিরহাট খাগড়াছড়ি বাস মিনিবাস মালিক সমিতি যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর, মো. শাহজাহান, মো. সুলতান আহম্মদ, আবদুল মাবুদ তালুকদার, মো. ইউছুপ, মো. দিদার, মো. টিটু চৌধুরী, মো.  জসিম, মো. ইসহাক চৌধুরী, মো. আলম, মো. রাশেদ ও আলাউদ্দিন প্রমুখ।

ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।