ভূমি মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (জিআরএস) থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ১৯ মে থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে জমা পড়া ও নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে চট্টগ্রামে মোট ৮৮২টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৪৮৬টি নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে অভিযোগ নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতাংশ।
অভিযোগ নিষ্পত্তির সংখ্যায় চট্টগ্রামের পর রয়েছে ময়মনসিংহ। জেলাটিতে ১৯৭টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, যার হার ৪১ শতাংশ। এ ছাড়া পাবনায় ১৭০টি, বগুড়ায় ১৬২টি, যশোরে ১৬০টি, নোয়াখালীতে ১৫৭টি, ঢাকায় ১৪৪টি এবং রাজশাহীতে ১৪৩টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে।
সারা দেশে একই সময়ে অনলাইনে মোট ১৫ হাজার ২০১টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৮৪টি নিষ্পত্তি হয়েছে। অনিষ্পন্ন রয়েছে ১০ হাজার ৮১৭টি অভিযোগ। জাতীয় পর্যায়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির হার ২৯ শতাংশ। সেই হিসাবে জাতীয় গড়ের চেয়ে চট্টগ্রামে অভিযোগ নিষ্পত্তির হার ২৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
অনলাইনে ভূমি অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়ে চট্টগ্রামের দুই অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের কাট্টলী সার্কেল ভূমি কার্যালয়ের অধীন একটি অভিযোগের আবেদনকারী শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার পর তিনি জিআরএসে অভিযোগ করেন। পরে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সমস্যার সমাধান হয়েছে। পরে তিনি অনলাইনে দাখিলাও পেয়েছেন।
হাটহাজারী উপজেলার আরেক অভিযোগকারী নুরদ্দীন বলেন, অনলাইনে অভিযোগ করার পর তাঁর সমস্যার সমাধান হয়েছে। পরে ডাকযোগে তিনি নামজারি খতিয়ানও পেয়েছেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশের অনেক মামলা ও বিরোধের পেছনে ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতার কারণে নাগরিকদের যাতে মামলা, হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ ও সমস্যা সমাধানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ভূমিসেবা সহজ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ভূমিসেবা-সংক্রান্ত অভিযোগ অনলাইনে দাখিলের সুযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা ও ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করছেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।