দক্ষিণ পূর্ব

আজ সন্দ্বীপ হানাদার মুক্ত দিবস

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
পঠিত :
আজ সন্দ্বীপ হানাদার মুক্ত দিবস

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক

আজ সন্দ্বীপ হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে সন্দ্বীপ হানাদার মুক্ত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়। সন্দ্বীপের মানুষ সেই সময় অসামান্য সাহসিকতা ও ত্যাগের নজির স্থাপন করেছিল। প্রতিটি গ্রাম ও জনপদে তখন গড়ে উঠেছিল প্রতিরোধের দুর্গ। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

সারাদেশ যখন মুক্তির নেশায় যুদ্ধে বিভোর তার ঢেউ আচড়ে পড়ে রণাঙ্গনের অকুতোভয় সন্দ্বীপে। সৈনিক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সংগঠিত হয় সন্দ্বীপের দামাল ছেলেরা। মুক্তিযুদ্ধ তখন চূড়ান্ত পরিণতির দ্বারপ্রান্তে। সন্দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের উপদলসমূহের গেরিলা অপারেশনের সফলতা তখন সবার মুখে মুখে। সেদিন ছিল ৬ ডিসেম্বর মধ্যরাত। যুদ্ধের রণকৌশল ঠিক করে সন্দ্বীপ সদরে অবস্থান করলেন কমান্ডার রফিকুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে সন্দ্বীপ থানা অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হন সবাই।

আগের রাতেই কমান্ডার রফিকুল ইসলাম ও মাইটভাংগার ডা. আবদুল আজিজ সন্দ্বীপ থানা রেকি করেন। রফিকুল ইসলামের সাথে ছিলেন ডেপুটি কমান্ডার মাহবুবুল আলম বাদল, সফিকুল আলম, আলী হায়দার চৌধুরী বাবলু, ফখরুল ইসলাম রওশন, হুমায়ুন কবির, মৌ. এমলাক, মৃণাল কান্তি, নাজমুল হাসান বাবুল, মো. ইয়াছিন, একেএম শাহজাহান, বেলাল উদ্দিন প্রমুখ। রাত ১টার দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত অভিযান শুরু হয়। তারা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করেন। চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পুরো থানা কম্পাউন্ড ঘিরে ফেলে। অভিযান শেষ হতে ভোর হয়ে যায়, একে একে পাক সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করে। থানার অফিস ইনচার্জকে অপসারণ করে নাজমুল হাসান বাবুলকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘোষণা করা হয়। সকাল ৮টা নাগাদ সন্দ্বীপ থানা কম্পাউন্ডে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। মুক্ত হয় সন্দ্বীপ।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।