দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ‘পর্যবেক্ষণে’ রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওসমান হাদি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।
সকাল সোয়া দশটার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গণমাধ্যমে বলেন, ওসমান হাদির ‘ইন্টারনাল রেসপন্স’ আছে। তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসকরা তাকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তারা এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছেন না।
আব্দুল্লাহ আল জাবের ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে ওসমান হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। গতকাল হাদিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। সকাল থেকে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় করতে দেখা যায় ইনকিলাব মঞ্চ, মঞ্চ ২৪ ও বিভিন্ন নামের প্ল্যাটফর্মের নেতা কর্মীদের।
সকাল সাড়ে দশটায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মঞ্চ-২৪ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী। তিনি বলেন, এই হামলা পরিকল্পিত। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রমাণ দেখেছি, হামলাকারীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য। অথচ অপরাধীদের ধরতে সরকার অপারগতা প্রকাশ করছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছেন, তারা সবাই নিরাপত্তা সংকটে রয়েছেন বলে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান গতকাল বিকেলে জানান, একটি গুলি হাদির কানের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ নেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক অস্ত্রোপচার করেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
হাদির বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন তিনি। পাশাপাশি সক্রিয় ছিলেন বিভিন্ন আন্দোলনে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখার পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আলোচনায় আসেন হাদি। সাংস্কৃতিক এই প্ল্যাটফর্ম তাদের লক্ষ্য ঠিক করে, ‘সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণ’। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বক্তব্য হাদিকে আলোচনায় আনে। ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার সময় হাদি সক্রিয় ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলা ভেঙে দিতে বলেছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে দুই দুর্বৃত্ত গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পরিবারের সিদ্ধান্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।