দক্ষিণ পূর্ব

ইতালি পাঠানোর নামে মানবপাচার, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ২

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২৮ দুপুর
পঠিত : ৩৭
ইতালি পাঠানোর নামে মানবপাচার, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ২

ছবি পিবিআই

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১১ জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার কদমতলী থানার শনির আখড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের দুলাল দেওয়ান (৫৫) ও মাদারীপুরের জামাল (৫০)। পিবিআই জানিয়েছে, তাঁরা সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী দলের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের একাধিক মামলাও রয়েছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মাতুয়াইলের বাসিন্দা মো. সাগরসহ ১১ জন ইতালি যাওয়ার জন্য জামাল ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। এর মধ্যে সাগর দেড় লাখ টাকা এবং নাঈম তালুকদার, মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার ও আসাদুল্লাহ নয়ন এক লাখ টাকা করে অগ্রিম দেন। একইভাবে সাইফুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ইতালি যাওয়ার জন্য দুলাল দেওয়ানকে পাঁচ লাখ টাকায় চুক্তি করে এক লাখ টাকা অগ্রিম দেন। অন্য ভুক্তভোগীরাও বিভিন্ন আসামিকে পৃথকভাবে টাকা দেন।

পুলিশের ভাষ্য, গত ৪ এপ্রিল ১১ ভুক্তভোগীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার একে খান এলাকার হোটেল মেরিন ও হোটেল রোজ ভিউতে রাখা হয়। দুই দিন পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁদের মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর ঘাটে নেওয়ার পথে হালিশহর থানার ওয়াপদা মোড়ে টহল পুলিশ গাড়িটিকে থামায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ভুক্তভোগীদের কক্সবাজার বেড়াতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানায়। তবে ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে তাঁদের ইতালি পাঠানোর কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ সময় পুলিশ মানবপাচারের সন্দেহে আবদুর রহমান নামের একজনকে ৯টি পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার করে। তবে তানজিম হোসেন সাগর নামে আরেকজন পালিয়ে যান।

পরে ভুক্তভোগী মো. সাগরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল হালিশহর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১৫, ১৯ ও ২২ ধারায় মামলা হয়।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো জানায়, হালিশহর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর গত মে মাসে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) মো. মহসিন চৌধুরী-পিপিএম তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর বুধবার শনির আখড়া এলাকা থেকে দুলাল দেওয়ান ও জামালকে গ্রেপ্তার করেন।

পিবিআই আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জামালের বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা এবং মাদারীপুর সদর আদালতে আরও দুটি মানবপাচার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দুলাল দেওয়ানের বিরুদ্ধেও চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল মানুষকে ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা নিত। পরে তাঁদের অবৈধভাবে সাগরপথে নৌকা বা মাছ ধরার ট্রলারে করে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো। সেখান থেকে সহযোগীদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের লিবিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হতো।

পিবিআই জানিয়েছে, চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আর)দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।