দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাদের এবার স্বস্তির ঈদ

sathi
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাদের এবার স্বস্তির ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতারা এবার ঈদ করবেন নিজেদের এলাকায়। এই নেতাদের বেশিরভাগই বিগত বছরগুলোতে ঈদ কাটিয়েছেন কারাগারে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বিএনপি নেতারা মুক্তি পেয়েছেন। এবার তাই পরিবার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারছেন তারা। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আসলাম চৌধুরী জুলাই-আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর গত বছরের ২০ আগস্ট জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তাঁর বিরুদ্ধে ৭৬টি মামলা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে আট বছর কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর ঈদ করেছেন আসলাম চৌধুরী। এবার তিন নিজ সংসদীয় এলাকা সীতাকুণ্ডে ঈদ করেছেন। এবার নেতার সঙ্গে ঈদ করতে পেরে খুশি কর্মীরাও। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ–আপ্যায়ন সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন, এত বছর নেতাকে কাছে পাইনি। নিজেরাও পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে ঈদ উদ্‌যাপন করেছি আত্মগোপনে থেকে। এবার মন খুলে প্রিয় নেতার সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও তাঁর নগরের মেহেদীবাগের বাসায় ঈদের দিন সকাল থেকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. সেলিম  বলেন, মেজবানি মাংস, পরোটা, জর্দা ভাত, সেমাই ও মিষ্টি থাকবে আপ্যায়নের জন্য। মেজবানের জন্য পাঁচটি গরু জবাই করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনও এবার নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। ২০২১ সালে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ঈদ করেছিলেন কারাগারে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৮৮টি। ঈদের দিন সকাল ১০টা থেকে নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মেয়র। পরদিন একটি কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের ব্যবস্থা করেছেন। মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফ উল হক চৌধুরী  বলেন, ঈদের দিন ও পরের দিন নেতা–কর্মীদের মেজবানি মাংস, সেমাই দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।

গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীর মীরেরহাটে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঈদ করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন নেতা-কর্মীদের সেমাই, মাংস ও পরোটা দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে। পরদিন আমি প্রতিটি ইউনিয়নে নেতা–কর্মীদের ঘরে ঘরে যাব শুভেচ্ছা জানাতে।’ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শাকিলা ফারজানাও হাটহাজারীতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করবেন।

১৬ বছর পর গ্রামের বাড়ি রাউজানে নেতা-কর্মীদের নিয়ে এবার ঈদ উদযাপন করবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, এত বছর ঈদ উদযাপন করতে পারিনি আওয়ামী লীগ ও পুলিশের কারণে। তাই এবার নেতা–কর্মীদের নিয়ে কাটাব। তাঁদের আপ্যায়নের জন্য মেজবানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীও সংসদীয় এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় ১৬ বছর পর ঈদ উদযাপন করছেন কাদের নগরে নেতা-কর্মীদের আপ্যায়নের জন্য মেজবানি মাংস ও সেমাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া পটিয়ায় নেতা–কর্মীদের আপ্যায়ন করছেন মেজবানি মাংস ও সেমাই দিয়ে। একই আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২০১৮ সালে মনোনয়ন পাওয়া এনামুল হকও গরু জবাই করে মেজবানি মাংস দিয়ে নেতা-কর্মীদের আপ্যায়নের কথা জানান।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।