মাসুদ আলম
চট্টগ্রামে উন্মুক্ত খাল ডেকে আনছে বিপদ। প্রতিটি খাল হয়ে উঠেছে মৃত্যুকূপ। একের পর এক খালে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ আর ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েই দায় সেরেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নেওয়া হয়নি খালগুলো নিরাপদ রাখার উদ্যোগ।
সবশেষ শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে চকবাজার কাপাসগোলা এলাকায় রিকশা উল্টে খালে পড়ে যায়। রিকশা আরোহী মায়ের কোলে থাকা ৭ মাসের শিশু নিখোঁজ হয় খালে পড়ে। মা ও নানী বেঁচে ফিরলেও স্রোতের কারণে তলিয়ে যায় শিশুটি।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মেহেদি হাসান তুহিন বলেন, রিকশাটি যাত্রীসহ খালে পড়ে যায়। স্রোত বেশি হওয়ায় শিশুটিকে তার মা ধরে রাখতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিস ওই শিশুকে উদ্ধার করতে অভিযান পরিচালনা করছে।
এর আগে চট্টগ্রামের বন্দর থানার পশ্চিম গোসাইলডাঙ্গা ও আবিদার পাড়ার মাঝামাঝি এলাকার খাল থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০২৪ সালের জুনের ওই ঘটনার জন্য দায়ী ছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা বক্স ড্রেনের ঢাকনা খোলা থাকায় শিশুটি খেলতে গিয়ে খালে পড়ে যায়।
২০২১ সালের ৩০ জুনে ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকার চশমা হিলে অটোরিকশা ড্রেনে পড়ে যায়। এ সময় অটোরিকশা চালক ও যাত্রীর সলিলসমাধি ঘটে। একই বছর ২৫ আগস্ট দুই মাসের মাথায় মুরাদপুর এলাকায় খালে পড়ে নিহত হন একজন। হাটতে গিয়ে পা পিছলে তিনি ভারি স্রোত থাকা ওই নালায় পড়ে যান তিনি।
পরের মাস সেপ্টেম্বরে নাছিরছড়া খালে পড়ে তলিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাদিয়া। পড়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে ১৯ বছরের এই তরুণীর লাশ পরিবারকে হস্তান্তর করে।
একই বছরের ডিসেম্বরে চশমা খালে নেমে ১১ বছরের এক শিশু তলিয়ে যায়। পরে তার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, খালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে বছরের পর বছর। মানুষ পরে মারা যাওয়ার পরও রেলিং স্থাপন করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র শোক প্রকাশ ও কিছু টাকা নিহতের পরিবারকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না। অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে গোটা নগরীর খালগুলোতে রেলিং স্থাপন করতে হবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।