দক্ষিণ পূর্ব

‘এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাত মায়ের গায়ে’

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পঠিত :
‘এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাত মায়ের গায়ে’

চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাত মায়ের গায়ে’ বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখন তারা মায়ের গায়ে হাত তোলে। আবার এসে বলে, একটা ফ্যামিলি কার্ড নাও। এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ের হাত। রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। আমার মায়ের মর্যাদার কাছে ওই ফ্যামিলি কার্ড নস্যি, এর দুই পয়সার কোনো গুরুত্ব নেই। আগে আমার মায়ের মর্যাদা, তারপর তোদের ফ্যামিলি কার্ড। মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছ, আগুন জ্বলে উঠবে। মা-বোনদের আমরা মাথায় তুলে রাখব ইনশল্লাহ। মায়ের মর্যাদার জন্য জান দিতে প্রস্তুত থাকব।’ 

তিনি আরও বলেন, যে যুবসমাজ লড়াই করেছিল, তাদের দাবি ছিল একটাই—উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা সমাজের সর্বস্তরের সব মানুষের জন্য ন্যায্যতা চাই। যারা এই ন্যায্যতা দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের দেশ থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। সেই মায়ের সন্তানদের ভয় দেখাইও না। আমাদের মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছো—আগুন জ্বলে উঠবে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর অত্যাচার শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার মাধ্যমে। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ কী কী করেছিল আপনারা সবই জানেন। তাদের পাপের শাস্তি তারা এক অংশ পেয়ে গেছে। কিন্তু এরপর সবচেয়ে নির্যাতিত দল জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য্য ধরল। শহিদ পরিবারগুলোর পাশে গিয়ে হাজির হল। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াল।’ 

‘আর আরেকটি দল চাঁদাবাজি শুরু করে দিল। আমি তাদের অনেক সিনিয়র নেতাকে হাত ধরে বলেছি, দোহাই আল্লাহ, আমরা সবাই মজলুম ছিলাম, জালেম হবেন না। মানুষকে কষ্ট দেবেন না। চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। দেশকে অমুক আলম, তমুক আলমের সাম্রাজ্য বানাবেন না। বারবার অনুরোধের পরও তারা শান্তির পথে, মানুষকে ভালোবাসার পথে আসলেন না। বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি শুরু করে দিল। এই দখলদারি করতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন মানুষকে নিজেরাই মেরে ফেলল। এরা বাংলাদেশকে কী দেবে! ক্ষমতায় আসার আগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ যে বার্তা দিয়েছিল, একই বার্তা এখন এরাও দিচ্ছে।’ 

সেই দল এখন জামায়াতের পেছনে লেগেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন তারা লেগেছেন আমাদের পেছনে, আমাদের মা-বোনদের পেছনে। তারা মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়। তারা ‍হুমকি দেয়, গায়ের কাপড় খুলে ফেলবে। এরা কি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়নি ? এরা যদি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়, তাহলে প্রথমে অনুরোধ করব, তোমরা তোমাদের মাকে সম্মান কর।’ 

চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় এক্স আইডি হ্যাক করা হয়েছে জানিয়ে আমির বলেন, ‘আমি কেন প্রতিবাদ করি, সেজন্য আমার আইডি হ্যাক করে আমার নামে এত জঘন্য একটা বিষয় চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বলবেন আপনার ঘরের কলাটা খেল কে ? ওই যে ঠাকুর ঘরে কে রে, অর্ধেক কামড় দিয়ে বলে আমি কলা খাই না। হ্যাক করেছে হ্যাকার। এরই মধ্যে আবিষ্কার হয়ে গেছে কারা এটা করেছে ? ওদের পেছনে কোন কালো হাত আছে, সেটাও আমরা আবিষ্কার করব ইনশল্লাহ।’ 

‘তারা করে আমার নামে চালাই দিয়েছে। অসুবিধা নাই, আল্লাহ তার মাথার ওপর লানত হিসেবে এটাকে ফেরত দেবেন। মহান আল্লাহ সাক্ষী, এ ধরনের নোংরা কথা দূরে থাক, নোংরা চিন্তাও কখনো করি না। আমাদের মা-বাপ আমাদের এই শিক্ষা দেননি।’ 

জামায়াত আমির বলেন, আমরা যুবসমাজকে কথা দিচ্ছি—বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অসম্মানিত করবো না। প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব। তারপর বলব, তোমার কাজটা তুমি নাও, আমার দেশটা আমাকে করে দাও।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ নামের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে এই যুবসমাজকে ক্যাপ্টেন হিসেবে বসাতে চাই। সেই উড়োজাহাজের প্যাসেঞ্জার সিটে আমরা বসে থাকতে চাই। এরা এই উড়োজাহাজ চালিয়ে জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। অতীতের কাসুন্দি টেনে এই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না। ধর্মে–বর্ণে আমরা কোনো ভেদাভেদ চাই না। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশকে আমরা ফুলের বাগান হিসেবে সাজাতে চাই।

তিনি বলেন, সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই, বিশেষ করে মা–বোনদের জন্য—তাদের ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে। মা–বোনদের সর্বশক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। মায়ের মর্যাদার মাথার ওপরে তাদের তুলে রাখব ইনশাল্লাহ। মায়ের মর্যাদা দিতে না পারলে জান দিতে প্রস্তুত থাকব।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের শফিউল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এরআগে জামায়াতে ইসলামীর আমির লোহাগাড়া ও সীতাকুণ্ডে জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।