দক্ষিণ পূর্ব

এডিসের লার্ভা মিললেই আইনি ব্যবস্থা: মেয়র ডা. শাহাদাত

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬
পঠিত :
এডিসের লার্ভা মিললেই আইনি ব্যবস্থা: মেয়র ডা. শাহাদাত

ছবি : সংগৃহীত

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুরক্ষা বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও নাগরিক সভার আয়োজন করেছে।

 

শনিবার (২৭ জুন) চসিক পাবলিক লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, আঙিনা, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল।

 

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগ, উন্নতমানের লার্ভিসাইড প্রয়োগ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

 

পরিসংখ্যান তুলে ধরে মেয়র জানান, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে প্রায় ৯ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় এবং ৭৮ জনের মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪৮ জনে, মৃত্যু হয় ১৬ জনের। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হন ২ হাজার ৬২২ জন এবং মৃত্যু হয় ৮ জনের। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১০৭ জনে; এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

 

তিনি বলেন, এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। নগরবাসীকে নিয়মিত ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবার সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর।

 

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও ঘোষণা দেন, কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নাগরিক সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি।”

 

অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

নাগরিক সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।