দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে রাজনীতিতে বিতর্ক বাড়ছে। এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি পিআর পদ্ধতির কঠোর বিরোধিতা করছে।বিরোধিতার তালিকায় আছে আরও ২৭ টি।তবে এদের মধ্যে কয়েকটি দল আংশিক পিআর এর পক্ষে মতামত দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ এপর্যন্ত ১৮ টি দল এই পদ্ধতির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। ফলে পিআর পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর পক্ষে-বিপক্ষের বক্তব্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৫টি। এর মধ্যে বিভিন্ন কারণে চারটি দলের নিবন্ধন বাতিল রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। ফলে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৮টি দল পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের পক্ষে। বিপক্ষে অবস্থান ২৮টি দলের। চারটি দল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। কিছু দল আংশিকভাবে এই পদ্ধতির পক্ষে। বিপক্ষে থাকা দলগুলো মূলত বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী। এর বাইরে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) পিআর পদ্ধতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। মূলধারার ইসলামী দলের মধ্যে পাঁচটি দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে, দুটি বিপক্ষে এবং দুটি দল অবস্থান পরিষ্কার করেনি।
পিআর পদ্ধতি নিয়ে কোন দলের কী অবস্থান: পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), তৃণমূল বিএনপি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেস।
অন্যদিকে, বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থার পক্ষে রয়েছে বিএনপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণফোরাম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (নিম্নকক্ষ বিদ্যমান ব্যবস্থায় এবং উচ্চকক্ষ পিআর), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম (নিম্নকক্ষ বিদ্যমান ব্যবস্থায় এবং উচ্চকক্ষ পিআর), বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), নাগরিক ঐক্য (নিম্নকক্ষ বিদ্যমান ব্যবস্থায় এবং উচ্চকক্ষ পিআর), গণসংহতি আন্দোলন (নিম্নকক্ষ বিদ্যমান ব্যবস্থায় এবং উচ্চকক্ষ পিআর)।
ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে। আর ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এই পদ্ধতির বিপক্ষে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোট এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এই পদ্ধতির প্রবক্তাই হলো জাতীয় পার্টি, কিন্তু এই স্বল্প সময়ে এই পদ্ধতিতে নির্বাচন অসম্ভব। তাই আগামী নির্বাচন এই পদ্ধতিতে না হয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতেই হোক। তবে পিআর নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, বাংলাদেশে যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হয়, সেখানে মানুষ ব্যালট পেপারে ভোট দেবে সেটাই উত্তম। নতুন কোনো পদ্ধতির আশ্রয় নিলে তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হবে। সরকারি প্রভাবমুক্ত, অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে এতেই দেশের অর্ধেক ঝামেলামুক্ত হবে। মানুষ দেশের মালিকানা বুঝে নিতে চায়, প্রচলিত সাংবিধানিক পদ্ধতিতে ভোট চায়।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।